ইঞ্জিন অয়েল: কোনটা কিনবেন, কখন বদলাবেন
ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের ভেতরের অংশগুলোর ঘর্ষণ কমায়, তাপ সরায় এবং ময়লা ধরে রাখে। ভুল বা নকল অয়েল ইঞ্জিনের আয়ু কমিয়ে দেয়, তাই কেনার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে নিন।
১. আগে ম্যানুয়াল দেখুন
আপনার গাড়ি বা বাইকের মালিকের ম্যানুয়ালে প্রস্তুতকারক কোন গ্রেড ও কতটুকু অয়েল লাগবে তা লেখা থাকে। ম্যানুয়াল না থাকলে নির্ভরযোগ্য মেকানিক বা অথোরাইজড সার্ভিস সেন্টারের কাছে জিজ্ঞেস করুন।
২. 10W-40 লেখার মানে কী
এই সংখ্যাকে ভিস্কোসিটি বলে, অর্থাৎ তেল কতটা ঘন। W-এর আগের সংখ্যা ঠান্ডা অবস্থায় তেলের ঘনত্ব বোঝায়। সংখ্যা যত কম, ঠান্ডায় তেল তত পাতলা থাকে ও স্টার্ট নেওয়া সহজ হয়। পরের সংখ্যা ইঞ্জিন গরম হলে তেলের ঘনত্ব বোঝায়। ম্যানুয়ালে যে গ্রেড বলা আছে সেটাই ব্যবহার করুন।
৩. তিন ধরনের অয়েল
- মিনারেল: দাম কম, তবে সাধারণত তাড়াতাড়ি বদলাতে হয়
- সেমি-সিনথেটিক: মাঝামাঝি দাম ও মান
- ফুল সিনথেটিক: দাম বেশি, তাপ ও চাপ ভালো সামলায় এবং বেশি দিন টেকে
৪. মোটরসাইকেলের জন্য বিশেষ বিষয়
বেশিরভাগ বাইকে ইঞ্জিন ও ক্লাচ একই তেলে ভেজা থাকে। এসব বাইকের জন্য বাইকের অয়েল কিনুন, যার গায়ে JASO MA বা MA2 লেখা থাকে। গাড়ির অয়েলে ক্লাচ পিছলে যেতে পারে।
৫. কখন বদলাবেন
সময়সীমা ইঞ্জিন, অয়েলের ধরন ও চালানোর ধরনের উপর নির্ভর করে। ম্যানুয়ালের নির্দেশ মানুন। ধুলাময় রাস্তা, ভারী যানজট বা বেশি বোঝা টানলে আরও আগে বদলানো ভালো। অয়েল ঘন কালো ও গাদা মনে হলে বা ইঞ্জিনের শব্দ বাড়লেও দেরি করবেন না।
৬. অয়েল ফিল্টার ও মাত্রা
গাড়িতে অয়েল বদলানোর সময় ফিল্টারও বদলান। ডিপস্টিক দিয়ে অয়েলের মাত্রা সমতল জায়গায় ইঞ্জিন বন্ধ রেখে মাঝেমধ্যে দেখে নিন। বেশি বা কম, কোনোটাই ভালো নয়।
৭. নকল অয়েল এড়ানোর উপায়
- সিল ভাঙা বা ঢিলা ঢাকনার বোতল কিনবেন না
- ঝাপসা ছাপা, বানান ভুল বা ব্যাচ নম্বরহীন লেবেল সন্দেহজনক
- অনেক কম দামের অয়েল থেকে সাবধান
- পরিচিত দোকান বা অথোরাইজড ডিলার থেকে কিনে রসিদ রাখুন
- সম্ভব হলে সার্ভিসিংয়ের সময় সামনে বোতল খুলতে বলুন
গাড়ি বাজারে বিক্রেতার সাথে চ্যাট করে অয়েলের গ্রেড, ব্যাচ ও কোন মডেলে চলবে জেনে নিতে পারেন।